Ticker

6/recent/ticker-posts

নারী স্বাধীনতা, নারীবাদ

নারী স্বাধীনতা : কালারফুল নারী স্বাধীনতা বলতে আমরা বুঝি নারীর সর্বোত্তম অধীকার ভোগ করা। এটি নারীদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক এমনকি রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে নারী স্বাধীনতা বলতে আমরা দেখি, নারীর নগ্নতা। যত বেশি নারী স্বাধীন নারী ততবেশি নারী নগ্ন। নারী স্বাধীনতা মানে ঘরের বাইরে নারী ফলাফল বিলুপ্ত পরিবার। নারী স্বাধীনতা মানে অর্থ উপার্জন ফলাফল অন্যের অধীনের চাকর। নারী স্বাধীনতা মানে বেশি বেশি ভোগ ফলাফল পুজিবাদীর লাভ।
নারী স্বাধীনতা

নারী মানে বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন মানেই নগ্নতা। নারীর কাপড় যত ছোট বিজ্ঞাপন তত হিট।
নারী মানে ফ্যাশন, ফ্যাশনশো মানে ছোট কাপড়ে নারীর প্রর্দশনী। পোষাক যত ছোট, বাচনভঙ্গি যত অশ্লীল নারী তত সাহসী।
পুজিবাদীরা নারীকে পন্য হিসেবে দেখে, তাদেরকে বিজ্ঞাপনে নামায়, তাদেরকে নগ্ন পোষাকে ফ্যাশনশো করায়, তাদেরকে পন্য বানায়। বোকা নারী বুঝেনা আমাকে দিয়ে কার লাভ, কে আমাকে টিস্যু হিসেবে ব্যবহার করে।
আপনি এই যুগের একজন সচেতন স্মার্ট নারী আপনি বলেনতো রাস্তায়, বাসে, বীচে, বাজারে, অফিসে, খেলার মাঠে, কতজন পুরুষকে আপনার মত ছোট পোষাকে দেখেছেন। নারী যদি বুঝতো পুরুষরা তাদের কিভাবে দেখে, তাদের নিয়ে কি কি কল্পনা করে, স্বল্পবসনা নারীদের নিয়ে তার বাবা, ভাই এমনকি তার ছেলেও কি কি ভাবে, তাহলে শুধু বোরকা নয়, বস্তা ব্যবহার করে চলাফেরা করতো।

আমরা যারা ইউরোপ তথা পশ্চিমা বিশ্বকে নারীর স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকারের কেন্দ্রবিন্দু মনে করি শুধুমাত্র তাদের জন্য বলে রাখি...

ইউরোপে নারী নির্যাতন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। যদিও ইউরোপের অনেক দেশ নারী অধিকার এবং সুরক্ষার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, তবুও নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি এখনও প্রচুর পরিমাণে ঘটছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নারী নির্যাতনের বর্তমান চিত্র এবং এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

ইউরোপের নারীদের নির্যাতনের ধরন ও অবস্থা:

  • গার্হস্থ্য সহিংসতা (Domestic Violence)ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ২০১৪ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন তার ১৫ বছর বয়স থেকে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। গার্হস্থ্য সহিংসতা ইউরোপে নারী নির্যাতনের অন্যতম প্রধান রূপ।
  • যৌন হয়রানি (Sexual Harassment)কর্মক্ষেত্রে এবং প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কর্মস্থলে নারীরা সহকর্মী বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন।
  • মানব পাচার (Human Trafficking)নারী পাচারও ইউরোপে একটি বড় সমস্যা। বিশেষত পূর্ব ইউরোপ থেকে পশ্চিম ইউরোপে নারীদের পাচার করা হয় যৌন বাণিজ্যের জন্য।
  • ফিমিসাইড (Femicide)নারীদের হত্যা বা ফিমিসাইড একটি উদ্বেগজনক সমস্যা। বিশেষ করে পারিবারিক বা সম্পর্কগত কারণে নারীরা হত্যার শিকার হন।

দেশের নিরিখে নির্যাতনের অবস্থা:

ফ্রান্স

  • গার্হস্থ্য সহিংসতা: ফ্রান্সে প্রতি তিন দিনে একজন নারী তার সঙ্গীর দ্বারা হত্যার শিকার হন।
  • আইনের প্রয়োগ: গার্হস্থ্য সহিংসতা রোধে আইন রয়েছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগের অভাব।

যুক্তরাজ্য

  • যৌন হয়রানি: কর্মস্থলে এবং প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির হার বেশ উচ্চ।
  • সাংবাদিকতায় নিপীড়ন: নারীরা সাংবাদিকতা পেশায় উল্লেখযোগ্য হয়রানির শিকার হন।

জার্মানি

  • মানব পাচার: জার্মানি মানব পাচারের একটি প্রধান গন্তব্য দেশ।
  • গার্হস্থ্য সহিংসতা: প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন তার জীবনে গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

সুইডেন

  • ধর্ষণ: সুইডেনে ধর্ষণের হার ইউরোপে অন্যতম উচ্চ।
  • আইন ও প্রতিরোধ: সুইডেনের আইন ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর, কিন্তু অপরাধের হার এখনও উদ্বেগজনক।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বৈশ্বিক পরিসংখ্যান

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা:

  • প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, বিশ্বব্যাপী 3 জনের মধ্যে 1 জন মহিলা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন অন্তরঙ্গ সঙ্গীর দ্বারা। এটি প্রায় 736 মিলিয়ন নারীর সমান। গত এক দশকে পরিস্থিতি অনেকাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা একটি স্থায়ী সমস্যা নির্দেশ করে (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO))।

  • ঝুঁকিতে বয়সের গ্রুপ: অল্প বয়স্ক মহিলারা, বিশেষ করে যাদের বয়স 15-24, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই বয়সের 4 জনের মধ্যে 1 জন মহিলা যারা সম্পর্কে ছিলেন তাদের বিশের মাঝামাঝি সময়ে একজন অন্তরঙ্গ সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার সম্মুখীন হবেন (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO))।

অ-অংশীদার যৌন সহিংসতা:

  • বৈশ্বিক প্রভাব: বিশ্বব্যাপী প্রায় 6% মহিলা তাদের সঙ্গী ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে রিপোর্ট করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে এই ধরনের সহিংসতা বেশি দেখা যায় (World Bank Gender Data Portal)।

  • আন্ডার-রিপোর্টিং: উচ্চ মাত্রার কলঙ্ক এবং আন্ডার রিপোর্টিংয়ের কারণে, অংশীদার-বহির্ভূত যৌন সহিংসতার প্রকৃত প্রবণতা রিপোর্টের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে— (ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক জেন্ডার ডেটা পোর্টাল)।

মানব পাচার:

  • ভিকটিম ডেমোগ্রাফিক্স: ইউএন অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) রিপোর্ট করে যে বিশ্বব্যাপী পাচারের শিকার নারী ও মেয়েরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, এবং অন্যান্য ধরনের অপব্যবহার (UNODC) (UNODC)।

  • মহামারী প্রভাব: COVID-19 মহামারী পাচারের সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা লকডাউন এবং কম চলাফেরার কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের সনাক্ত করা এবং সহায়তা করা আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে (UNODC)।

সহিংসতার জন্য অবদানকারী কারণগুলি:

  • সাংস্কৃতিক নিয়ম এবং আইনি কাঠামো: অনেক অঞ্চলে, সাংস্কৃতিক নিয়ম এবং দুর্বল আইনি কাঠামো মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্থায়ী করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু সমাজে, স্ত্রী-প্রহারের একটি উচ্চ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই বিশ্বাস করে যে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গত।

  • শৈশব এক্সপোজার: আপত্তিজনক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা বয়ঃসন্ধিকালে ঘনিষ্ঠ অংশীদার সহিংসতা স্থায়ী করে বা অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা সহিংসতার একটি চক্র তৈরি করে (ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক জেন্ডার ডেটা পোর্টাল)।

এখন একজন নারী হিসেবে আপনি ভাবুনতো আপনার করনীয় কি ? ভাবনা শেষ হলে আসুন, দেখুন ইসলাম একজন নারীকে কি কি দেয়। কতটুকু মর্যাদা ও সম্মান দেয়। কতটুকু অধিকার দেয়। আসুন মিলিয়ে নিই।

নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম একটি পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম নারীদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করে।

মা হিসেবে ইসলামে নারীর মর্যাদা

  • আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেনঃ তোমার মা। লোকটি বললঃ অতঃপর কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললঃ অতঃপর কে? তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমার বাপ। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৫৯৭১)

স্ত্রী হিসেবে ইসলামে নারীর অধিকার

  • "তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর দান কর স্বতঃস্ফূর্তভাবে।" (সূরা নিসা: আয়াত নং- ৪)
  • "কোনো কুমারীর বিয়ে তার অনুমতি ছাড়া বৈধ নয়।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৯৭০)
  • "তোমরা তাদের সাথে সদাচার করো।" (সূরা নিসা: আয়াত নং- ১৯)
  • "তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের খরচ বহন করো।" (সূরা তালাক: আয়াত নং- ৭)

কন্যা হিসেবে ইসলামে নারীর অধিকার

  • "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্বন্ধে আদেশ দেন: এক পুত্রসন্তানের সমান দুটি কন্যাসন্তানের অংশ।" (সূরা নিসা: আয়াত নং- ১১)
  • আমর আন্‌ নাকিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুটি মেয়ে সন্তানকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করে, কিয়ামতের দিনে সে ও আমি এমন পাশাপাশি অবস্থায় থাকব, এ বলে তিনি তার হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে দিলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৩১)

আপনি এই যুগের একজন আধুনিক সচেতন স্মার্ট নারী হিসেবে আপনার অবস্থান জানেন তো………….?


আমাদের ভাবনা গুলো জানতে......... 


Post a Comment

0 Comments